ঈদের নামাজে আমরা যে ভুলগুলো করে থাকি..!

ঈদের নামাজ খোলা আকাশের নিচে আদায় করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করতেন। যদি খোলা স্থানের ব্যবস্থা না থাকে তবে মসজিদেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে, তাতে সমস্যা নেই তবে সুন্নাত হলো খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়া।

> ঈদের নামাজ পড়ার নিয়মঈদের নামাজ খোলা জায়গা, মসজিদ কিংবা বাসা-বাড়ি যেখানেই পড়া হোক না কেন, অবশ্যই তা জামাআতের সঙ্গে পড়তে হবে। জুমআ নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত প্রয়োজন, ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যও একই শর্ত প্রযোজ্য।

সুতরাং জামাআত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। বাসা-বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হলেও অবশ্যই জামাআতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশের মসজিদ কিংবা বাইরে বিশাল জামাআতে ঈদের নামাজ আদায়ে রয়েছে বিধি-নিষেধ। তাই মসজিদ ছাড়াও বাসা-বাড়িতেও ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে। তবে শর্ত হলো তা জামাআতে আদায় করা এবং খুতবা দেয়া।

আর ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ইমাম
ছাড়া অন্তত তিনজন মুসল্লি হতে হবে।

ঈদের নামাজ ২ রাকাত। যা আদায় করা ওয়াজিব এবং জামায়াতের সাথে আদায় করতে হয়। ঈদের ২ রাকাত নামাজে অতিরিক্ত ৬ তাকবির দিতে হয়।

প্রথম রাকাত: আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে কিবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার ২ রাকাআত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে ইমামে পেছনে আদায় করছি বলে নিয়ত বাঁধতে হয়। প্রথমেই তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধবেন।

ইমাম ও মুসল্লিরা নিয়ত বাঁধার পর ছানা অর্থাৎ এ দোয়াটি পড়বেন, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা ঝাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।

তারপর ইমামের উচ্চস্বরে তাকবির বলার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিরাও তাকবির বলবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবির বলার সময় উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন। তৃতীয় তাকবিরের সময় উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে না ছেড়ে হাত বাঁধবেন। এরপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা এবং অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদা করবেন; মুসল্লিরাও ইমামের সঙ্গ রুকু-সিজদা করবেন।

দ্বিতীয় রাকাআত: ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মেলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩ তাকবির প্রথম রাকাআতের মতোই আদায় করবেন। এরপর রুকু-সিজদা করার পর অন্যান্য নামাজের মতোই সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

এ নিয়মে ঈদুল ফিতরও আদায় করা হয়। উভয় ঈদের আগে-পরে কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ নেই। এমনকি ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইক্বামতেরও প্রয়োজন হয় না।

তবে অনেকেই ঈদের নামাজ আর জানাজা নামাজের মধ্যে একটা ভুল করেন। সেটা হচ্ছে ঈদের নামাজে ৬ তাকবিরে কান বরাবর হাত তুলে ছেড়ে দিতে হয় কিন্তু জানাজা নামাজে একবার তাকবিরে তাহরিমা বলে নিয়ত করার পর আর হাত ছাড়তে হয় না।

ঈদের নামাজের সঠিক নিয়ম না জানার
কারনে আমরা অনেকেই সঠিক ভাবে
ঈদের নামাজ আদায় করতে পারিনা,

আমাদের প্রচেষ্টা সবাই যেনো নিয়ম জেনে
সঠিক ভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে ঈদের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *